যুবদলের ১৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি প্রকাশের পর সংগঠনে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। ৪ জুন বৃহস্পতিবার কমিটি ঘোষণার পর মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরা একে ‘পকেট কমিটি ও হাইব্রিড পুনর্বাসন বলে অভিহিত করছেন।
কমিটি ঘোষণার পর তৃণমূলের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়নের ঘাটতি রয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় কমিটি বলছে, যোগ্যতা ও ত্যাগের ভিত্তিতেই কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বঞ্চিতদের তালিকায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক জাভেদ হাসান স্বাধীন। তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী দাবি, শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা ছিলো তার। নতুন কমিটিতে প্রত্যাশিত মূল্যায়ন দেওয়া হয়নি তাকে। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের পরও তিনি বাদ পড়ায় কর্মীদের মধ্যে বিস্ময় ও হতাশা দেখা দিয়েছে।
এ ছাড়া কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আযম সৈকত কমিটিতে স্থান পাননি। দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা জানান, বিরোধী দলে থাকাকালীন তিনি একাধিক আন্দোলনে অংশ নিয়ে হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন এবং মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।
ঘোষিত কমিটিতে যাদের নিয়ে বিতর্ক তারা হলেন
সহ-সভাপতির দায়িত্ব পাওয়া জাহাঙ্গীর আলম দুলাল, সাব্বির আহমেদ দিপু, মো. ফিরোজ আব্দুল্লাহ, মাহমুদুর সালেহীন, আতিকুর রহমান আতিক ও ডা. লোহানী মো. তাজুল ইসলাম।
এর আগে ২০২৪ সালের ৯ জুলাই আব্দুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি এবং নুরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক করে ছয় সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুগত অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ পদ বাগিয়ে নিয়েছেন।
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পেয়েছেন মনিরুল ইসলাম সোহাগ, আবু আতিক আল হাসান মিন্টু, কফিল উদ্দিন ভূইয়া, মঈনুদ্দীন রুবেল, আজহারুল ইসলাম মিলন, গোলাম মোস্তফা, আবুল মনসুর খান দীপক, শামসুজ্জোহা সুমন ও আব্দুল ওয়াহাব।
সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পেয়েছেন হাসান আল মামুন লিমন, এন এম আব্দুল্লাহ উজ্জ্বল, গিয়াসউদ্দিন মামুন, মামুন হোসেন ভূইয়া, রাহাদুল আলম খান, খন্দকার মহিউদ্দীন খোকন, মাহবুবুর রহমান পলাশ, আলমগীর কবির সেলিম, মজিবুর রহমান ভূইয়া, অ্যাড. মেহেদী হাসান জুয়েল, মো. মাহসুদুল হক ও শাহাদ্দীন মুন্না শামসুল আলম রানা।
এ ছাড়া স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন ডা. গালিব হাসান, ডা. বেলাল হোসেন নাজিম, ডা. মাহমুদুল হাসান খান সুমন ও ডা. আল মামুন হাসান খান এমিলি ও সদস্য পদে আছেন আমিনুল ইসলাম খান, মাহাসীন বিশ্বাস, জহিরুল ইসলাম বিপ্লব, আব্দুল্লাহ এমিলসহ আরও একাধিক নেতাদের নিয়ে।
যুবদলের সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মাহফুজুর রহমান অভিযোগ করেন, গত ১৫-১৬ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে যারা রাজপথে ছিলেন না মামলা-হামলার মুখোমুখি হননি, তারাই কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ দখল করেছেন। অথচ যারা পুলিশের লাঠি খেয়েছেন, জেল খেটেছেন, সেই ত্যাগী কর্মীদের অনেকেই কমিটিতে স্থান পাননি।
এক ত্যাগী কর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে রাজপথে ছিলাম। কমিটি গঠনের আগে তৃণমূলের মতামত নেয়া হয়নি। সভাপতি মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নের কাছের লোকদের দিয়ে কমিটি সাজানো হয়েছে। এটা জিয়ার আদর্শ বিক্রি করার সামিল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কমিটির এক নেতা বলেন, মনিরুল ইসলাম সোহাগকে যুগ্ম সম্পাদক করা হয়েছে। অথচ দীর্ঘদিন মাঠের রাজনীতিতে অনুপস্থিত ছিলেন তিনি । এটা ত্যাগী কর্মীদের জন্য হতাশার। তার দাবি, দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও সংগ্রামের মূল্যায়ন না হলে তৃণমূলের কর্মীরা হতাশ হবে। কমিটি গঠনে তৃণমূলের মতামতকে আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
কমিটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ত্যাগী কর্মীদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরা ফেসবুকে তাদের ক্ষোভ ও হতাশার কথা জানাচ্ছেন।
তাদের বক্তব্য স্পষ্ট। যারা দীর্ঘদিন রাজপথে থেকে মামলা-হামলা মোকাবিলা করেছেন, পুলিশের নির্যাতন সহ্য করেছেন, তারা যদি মূল্যায়ন না পান, তাহলে ভবিষ্যৎ আন্দোলন-সংগ্রামে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো কর্মী পাওয়া যাবে না। রাজপথের কর্মীদের এই মূল্যায়নই সংগঠনের সবচেয়ে বড় শক্তি বলে মনে করেন তারা।
কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বলছে, দলের সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করা এবং ভবিষ্যৎ আন্দোলনকে বেগবান করতেই এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের দাবি, কমিটি গঠনে কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব করা হয়নি।
এ বিষয়ে যুবদলের সভাপতি মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে সাবেক যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির থেকে যারা বাদ পড়েছেন জাভেদ হাসান স্বাধীন সাবেক যুগ্ম সম্পাদক, খলিলুর রহমান খলিল সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক, কামরুল ইসলাম সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক, এমরান হোসেন মানিক সাবেক সহ সাধারদকসম্পাদক, সুমন দেওয়ান সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক, মাহফুজুর রহমান সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক, গোলাম ফারুক সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক, খালেদ মাসুদ সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক, মাহমুদুল হক হিমেল পল্লী উন্নয়ন সম্পাদক, মেহবুব মাসুম শান্ত সাহিত্য প্রকাশনা সম্পাদক, রিয়ন তালুকদার সাবেক গ্রাম সরকার সম্পাদক, আমানুল্লাহ বিপুল সহ ক্রিড়া সম্পাদক, আসাদুল আলম টিটু সহ শিল্প বিষয়ক সম্পাদক, সেলিম হোসেন মুন্না আকন্দ সাবেক সদস্য, কাওসার সরকার মামুন সাবেক সদস্য, শাহিনুজ্জামান মিন্টু সাবেক সদস্য।
এছাড়াও ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক নেতাদের মধ্যে যাদেরকে বাদ দেয়া হয়েছে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য রফিকুল ইসলাম রফিক সাবেক সহ-সভাপতি ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ, গোলাম আজম সৈকত সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ,
হুমায়ুন কবির সাবেক সহ সভাপতি ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ, আবুল হাসান সহ বিগত দিনের রাজপথের লড়াই কারা ডজন খানেক নেতাকর্মীদের রাখা হয়নি এই কমিটিতে।
মন্তব্য করুন