ঝালকাঠির জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের সকল হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের স্বাস্থ্যসেবার টেকসই মানোন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন জেলা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। শনিবার (২৩ মে) দুপুর ১টায় ঝালকাঠি সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত অধিপরামর্শ সভায় এ আশ্বাস দেন সিভিল সার্জন ডা. মো. হুমায়ূন কবীর।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর অনুপ্রেরণায় গঠিত ঝালকাঠি সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)-এর উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়। সভায় সনাক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সত্যবান সেন গুপ্ত সভাপতিত্ব করেন।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা স্বাস্থ্যসেবা খাতের বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের উপায় নিয়ে মতবিনিময় করেন। তারা বলেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন সম্ভব এবং সেবাগ্রহীতাদের সচেতন অংশগ্রহণ এ পরিবর্তনকে আরও ত্বরান্বিত করবে।
সভায় সিভিল সার্জন জানান, সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধান ও সুশাসন নিশ্চিত করতে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে লিখিত নির্দেশনা দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, সারাদেশের মধ্যে ঝালকাঠির তিনটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আগামী ছয় মাসের মধ্যে কম্পিউটারাইজড বা অটোমেশন পদ্ধতি চালু করা হবে। এছাড়া চলতি বছরের জুন মাসের মধ্যে ঝালকাঠি ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের নতুন ভবনের তিনতলা পর্যন্ত বহির্বিভাগ চালু করা হবে এবং ডিসেম্বরের মধ্যে লিফট স্থাপন শেষে সম্পূর্ণ ভবন চালু করা হবে।
সভায় সনাকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জেলা সদর হাসপাতালের পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ইউনিয়ন পর্যায়ের উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর সেবার মানোন্নয়ন জরুরি। বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সিভিল সার্জনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
এ সময় টিআইবি’র বিশেষায়িত মোবাইল অ্যাপ “প্যাক্টঅ্যাপ” ব্যবহার করে কমিউনিটি মনিটরিংয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার বিষয়টি সভায় তুলে ধরা হয়। সনাকের সহযোগী সংগঠন ইয়ুথ এনগেজমেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট (ইয়েস) গ্রুপ ও অ্যাকটিভ সিটিজেন্স গ্রুপ (এসিজি)-এর মাধ্যমে বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের সমস্যাগুলো ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়েছে বলে জানানো হয়।
সভায় স্বাস্থ্যখাতের বিভিন্ন সমস্যা হিসেবে ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো, ডাক্তার ও জনবল সংকট, সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে আচরণগত সমস্যা, ওষুধ সরবরাহ ঘাটতি, নাগরিক সনদের অনুপস্থিতি, তথ্য বোর্ড ও অভিযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতা, নারী ও প্রতিবন্ধীবান্ধব সুবিধার অভাবসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়।
সনাক সদস্যরা জানান, এসব সমস্যা সমাধানে স্থানীয়ভাবে যেসব উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব, তা দ্রুত গ্রহণ করা উচিত। অন্যদিকে যেসব সমস্যা স্থানীয়ভাবে সমাধান সম্ভব নয়, সেগুলো উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানানো হয়।
সভায় সিভিল সার্জন ডা. মো. হুমায়ূন কবীর বলেন, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ বদ্ধপরিকর। তিনি বলেন, “স্বাস্থ্যসেবায় কেউ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে বা অনিয়ম পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে জনবল সংকট ও অবকাঠামোগত সমস্যার মতো বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সমাধান করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ডা. জাবির হাসান, ডা. মোস্তাফিজুর রহমান, সনাক সহ-সভাপতি রাবেয়া বেগম, সদস্য মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার, গৌতম বনিক, কবিতা হাওলাদার, শিমুল সুলতানা হেপী, ইসমাঈল হোসাঈন, ইয়েস গ্রুপের সহ-দলনেতা শাকিব খান, ইয়েস সদস্য মো. শাহরিয়া পাপন, ফারজানা ইমাম, আছমা আক্তার, এসিজি সদস্য ও সমন্বয়কগণ এবং টিআইবি’র এরিয়া কোঅর্ডিনেটর মিজানুর রহমানসহ সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন