রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে নরসিংদী। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে অনুভূত হওয়া এই ভূমিকম্পে পুরো জেলার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ফলে কয়েক সেকেন্ডের কম্পনেই জেলার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৫৮ জন আহত হয়েছেন।
জানা যায়, ভূমিকম্পের সময় শহরের একটি আবাসিক ভবনের ছাদের রেলিং ভেঙে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন দেলোয়ার হোসেন (৩৭), তার মেয়ে তাসফিয়া (১৭) এবং ছেলে ওমর (৮)। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের দ্রুত নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে দেলোয়ার ও তাসফিয়ার অবস্থা স্থিতিশীল হলেও, ছোট্ট ছেলে ওমর ঢাকায় নেওয়ার পথে মৃত্যুবরণ করেন।
এদিকে ভূমিকম্পের প্রভাবে নরসিংদীর ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়, ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।
এছাড়া জেলার বিভিন্ন স্থানে ভবনের দেয়াল দুলে ওঠে, টিনের চাল কাঁপতে থাকে এবং জনমনে অস্থিরতার সৃষ্টি হয়। আতঙ্কে অফিস-আদালত ও বাড়িঘর থেকে মানুষ ছুটতে থাকে রাস্তায়। শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে দেখা দেয় তীব্র ভয়ভীতি।
জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও স্বাস্থ্য বিভাগ তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করে।
এদিকে হাসপাতালে নেয়া আহতদের অধিকাংশই হুড়োহুড়ি, পড়ে যাওয়া ও দেয়াল-রেলিং থেকে ইটপাথর খসে পড়ার কারণে আহত হয়েছে বলে জানায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বিশেষজ্ঞদের শঙ্কা কেন্দ্রস্থল নরসিংদী হওয়ায় আফটারশক বা পরবর্তী কম্পনের ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে। নাগরিকদের সতর্ক থাকতে অনুরোধ করা হয়েছে। এছাড়া পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণে রয়েছে প্রশাসনের।
এই অপ্রত্যাশিত ভূমিকম্পে মানুষ এখনো আতঙ্ক কাটিয়ে উঠতে পারেনি। আবারও এমন কাঁপুনি অনুভূত হলে বড় কোনো বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন জেলার বাসিন্দারা।
নরসিংদীর পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলম বলেন, ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা জেলা পুলিশের সব ইউনিটকে সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দিয়েছি। কোথাও কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সহায়তা দিচ্ছেন। ইতোমধ্যে আমরা বিভিন্ন দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। হাসপাতালগুলোতে আমাদের কর্মকর্তারা অবস্থান করছেন। আহতদের চিকিৎসার সার্বিক খোঁজখবর রাখা হচ্ছে। রক্তের প্রয়োজন হলে তা সংগ্রহে পুলিশ সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে।
তিনি আরও বলেন, জেলার প্রতিটি থানায়, উপজেলার দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের মাধ্যমে আমরা তথ্য সংগ্রহ করছি। কোথাও আরও কেউ আহত হয়েছেন কি না, কোনো স্থাপনা ঝুঁকিতে রয়েছে কি না জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় রেখে কাজ করছে পুলিশ।
তিনি বলেন, আমরা জেলা বাসীকে আশ্বস্ত করতে চাই যেকোনো দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা পুলিশ সবসময় জনগণের পাশে রয়েছে এবং থাকবে। আতঙ্কিত না হয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানান তিনি।
নরসিংদী সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, আহতদের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। কারণ অনেকেই সামান্য ব্যথা বা আঘাত পেলেও পরে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসতে পারেন। আমরা সব ধরনের জরুরি ব্যবস্থা প্রস্তুত রেখেছি এবং প্রয়োজন অনুসারে চিকিৎসক ও স্টাফ সংখ্যা বাড়ানো হবে।
মন্তব্য করুন