জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখভাগের সাহসী যোদ্ধা এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছে দেশ। শোকের ছায়া নেমে আসে দেশের বিনোদন জগতেও। হাদির মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে আবেগঘন পোস্ট দিয়ে শোক ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন দেশের জনপ্রিয় তারকারা।
জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা ওসমান হাদির একটি ছবি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করে নিজের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। তিশা লিখেছেন, শহীদ ওসমান হাদি আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রতীক হয়ে থাকবেন।
নির্মাতা এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন,
‘আমাদের ভাই হাদী রওনা দিয়েছেন অনন্তের পথে। আবরার, আবু সাঈদদের মতো হাদী শারীরিকভাবে না থেকেও আরও বেশি করে থাকবেন বাংলাদেশের বুকে। ইউ ফেইলড টু কিল ওসমান হাদী!
ওসমান হাদির পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে মডেল ও অভিনেত্রী পিয়া জান্নাতুল লিখেছেন, এটা সত্যিই খুব কষ্টের আর একেবারেই মেনে নেওয়ার মতো না। আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম দান করেন। আর তার শোকাহত পরিবারকে, বিশেষ করে তার ছোট্ট বাচ্চাকে ধৈর্য, শক্তি আর সান্ত্বনা দেন।
অভিনেত্রী বলেন, তিনি যেই হোন না কেন, আমরা এমন একটা ভবিষ্যৎ চাই, যেখানে রাজনীতি হবে ভালো, মানবিক আর দায়িত্বশীল; যেখানে মানুষের জীবনের মূল্য সবার আগে। এভাবে প্রাণ ঝরে যাওয়া কখনোই স্বাভাবিক হয়ে যাওয়া উচিত না।
হাদির মৃত্যুতে মর্মাহত হয়েছেন অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান চমক। তিনি লিখেছেন, ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। নামটা মনে রেখো, শহীদ-বীর শরিফ ওসমান হাদি। অভিনেত্রী আরও লিখেছেন—সে কোনো এমপি-মন্ত্রী ছিল না, কারও হক আত্মসাৎ করেনি, সাধারণ মানুষের ওপর অন্যায় করেনি। তবু—সামান্য কথার দায়ে, একটা জীবন এভাবে শেষ হয়ে যেতে পারে?
রুকাইয়া জাহান চমক বলেন, যে বাকস্বাধীনতার জন্য এত আন্দোলন, এত স্লোগান—আজ সেই স্বাধীনতা কোথায় দাঁড়িয়ে? ভিন্নমত মানেই কি শাস্তি? প্রশ্ন করাই কি অপরাধ? আজ হাদি, কাল কে?—এই প্রশ্নটা এখনই, নিজেদের ভেতরে ফিরে তাকিয়ে করার সময়।
তিনি বলেন, আমি হাদিকে কোনো দিন সামনাসামনি দেখিনি। ওনার সঙ্গে আমার কোনো রক্তের সম্পর্ক নেই। কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গেও আমি যুক্ত নই। তবু আজ মনটা কেমন ছটফট করছে, একটা গভীর অস্বস্তি। শরিফ ওসমান হাদি (১৯৯৩–ইনফিনিটি)।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টনে নির্বাচনী প্রচারণার সময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে গুরুতর আহত হন ওসমান হাদি। মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। টানা ছয় দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাত পৌনে ১০টার দিকে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
মন্তব্য করুন